একজন কমেন্ট করেছেন: “কিন্তু এর নাম রবুবিয়ত কেন দিতে হচ্ছে?? এইতো আমাদের চিরচারিত সামাজিক বন্দোবস্ত.....” (আমার ইদানিং রবুবিয়ত এর পোস্ট এ)… অথবা বলতে পারেন আমি কেন এত ত্যানা পেছাইতেছি … প্রশ্নটা খুব স্বাভাবিক। যে কেউ বলতে পারেন: এগুলোর নাম আবার রবুবিয়ত দিতে হচ্ছে কেন? মানুষকে পালন করা, সম্পর্কের যত্ন নেওয়া, মাটি-পানি-প্রতিবেশের দায় নেওয়া, পাবলিক জিনিসকে আমানত ভাবা, দুর্বলকে ফেলে না দেওয়া, অন্যের হক না খাওয়া, সমাজকে শুধু আইন দিয়ে না, নৈতিকতা ও দরদ দিয়ে ধরে রাখা—এগুলো তো নতুন কথা না। এগুলো তো আমাদের চিরাচরিত সামাজিক বন্দোবস্তের অংশ। এগুলো তো মা-বাবা, পাড়া, মসজিদ, মক্তব, গ্রাম, আড্ডা, দরবার, আন্দোলন, রান্নাঘর, ক্ষেত, নদী, শ্রম, প্রতিবেশ, আত্মীয়তা—এসবের মধ্যে বহুদিন ধরেই ছিল। তাহলে নতুন করে “রবুবিয়ত” বলার দরকার কী? দরকার আছে, কারণ যে জিনিস সবচেয়ে মৌলিক, সেটাই অনেক সময় সবচেয়ে অদৃশ্য হয়ে যায়। আমরা প্রতিদিন পালন করি। মা সন্তানকে পালন করেন। প্রতিবেশী অসুস্থ মানুষের খোঁজ নেয়। গরিব মানুষ আরেক গরিবের পাশে দাঁড়ায়। কোনো আনুষ্ঠানিক নীতি ছাড়া মানুষ বন্যায় ঘর খুলে দেয়, মৃতদেহ কাঁধে নেয়, ধার দেয়, ভাত ভাগ করে, কারও চাকরির চেষ্টা করে, কারও মেয়ের বিয়েতে টাকা তোলে, কারও চিকিৎসায় দৌড়ায়। এগুলোই সমাজকে ধরে রাখে। কিন্তু রাষ্ট্রের ভাষায় এগুলোর নাম কী? উন্নয়ন পরিকল্পনায় এগুলো কোথায়? governance framework-এ এগুলো কীভাবে দেখা হয়? budget line-এ এগুলোর জায়গা কোথায়? policy category-তে এগুলো কী নামে আসে? সাধারণত আসে না।
কারণ আমরা যে governance-এর ভাষা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি, তা আমাদের সমাজকে আমাদের নিজস্ব চোখে দেখতে শেখায়নি। ঔপনিবেশিক শাসনের প্রশাসনিক মেশিন সমাজকে দেখেছিল শাসনের বস্তু হিসেবে—population, territory, revenue, law and order, sanitation, productivity, risk, disorder, backwardness, improvement। মানুষকে দেখা হয়েছে নথি, জরিপ, কর, অনুমতি, অপরাধ, শ্রম, আনুগত্য, সন্দেহ, শ্রেণিবিভাগের ভেতর দিয়ে। এই দৃষ্টিতে সমাজের ভেতরের পালন, মমতা, অনানুষ্ঠানিক সহায়তা, আধ্যাত্মিক দায়, প্রতিবেশী সম্পর্ক, লোকজ ন্যায়, অদৃশ্য শ্রম—এসব governance-এর জ্ঞান হিসেবে দৃশ্যমান হয়নি। এই জন্যই আমাদের নিজস্ব সামাজিক বন্দোবস্ত রাষ্ট্রে দেখা যায় না। সরকারে দেখা যায় না। পরিকল্পনায় দেখা যায় না। একাডেমিক তত্ত্বেও অনেক সময় দেখা যায় না। কারণ যে ভাষা দিয়ে দেখা হচ্ছে, সেই ভাষার চোখই অন্যরকম। যে মেশিন society-কে control করার জন্য তৈরি, সে society-র care দেখতে পারবে কীভাবে? এখানেই “রবুবিয়ত” শব্দটি দরকারি হয়ে ওঠে। এটি নতুন শব্দ নয়। নতুন ফ্যাশন নয়। আরবি-ইসলামি বৌদ্ধিক ঐতিহ্যের গভীর শব্দ। আমাদের উপমহাদেশের anticolonial চিন্তা ও রাজনীতিতেও এর প্রতিধ্বনি ছিল। মাওলানা ভাসানীসহ বহু রাজনৈতিক-ধর্মীয়-সামাজিক চিন্তক এমন ভাষা ব্যবহার করেছেন, যেখানে মানুষ, মাটি, রিজিক, অধিকার, দায়, জুলুমবিরোধিতা, কৃষক-শ্রমিকের মর্যাদা, এবং আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দায়—এসব একসঙ্গে ভাবা যায়। তাই “রবুবিয়ত” কোনো invented branding না। বরং হারিয়ে যাওয়া, চাপা পড়ে থাকা, উপেক্ষিত এক value system-কে আবার দৃশ্যমান করার চেষ্টা। কারণ নাম দেওয়া মানে শুধু শব্দ বদলানো না। নাম দেওয়া মানে দেখা শেখা। যে জিনিসের নাম নেই, সেটা থাকে—কিন্তু রাজনৈতিক হয় না। সেটা জীবন চালায়—কিন্তু জ্ঞান হয় না। সেটা সমাজ বাঁচায়—কিন্তু policy হয় না। সেটা মানুষ ধরে রাখে—কিন্তু theory হয় না। নামহীন জিনিসকে সহজে appropriated করা যায়, ignored করা যায়, sentimental বলা যায়, informal বলা যায়, backward বলা যায়, charity বলা যায়, women’s work বলা যায়, community coping mechanism বলা যায়। কিন্তু যখন আমরা বলি “রবুবিয়ত”, তখন আমরা বলছি: না, এগুলো ছড়ানো-ছিটানো আবেগ নয়। এগুলো একটি নৈতিক-রাজনৈতিক দিগন্ত। এগুলো একটি alternative value system। এগুলো society কীভাবে নিজেকে ধরে রাখে—তার গভীর জ্ঞান।
এইখানে আপত্তি আসতেই পারে: “আচ্ছা, তাহলে কি শুধু নতুন নাম দিলেই সব বদলে যাবে?” না, অবশ্যই না। শুধু নতুন শব্দ বানিয়ে পৃথিবী বদলায় না। কিন্তু শব্দ ছাড়া পৃথিবীকে নতুনভাবে দেখা যায় না। ভাষা ছাড়া সত্য উচ্চারণ করা যায় না। যে ভাষা দিয়ে আমরা বন্দি, সেই ভাষা দিয়েই মুক্তির সব কথা বলা যায় না। মাঝে মাঝে আমাদের অন্য শব্দ দরকার হয়, অন্য ব্যাকরণ দরকার হয়, অন্য নৈতিক কল্পনা দরকার হয়। V for Vendetta ছবির সেই সুন্দর লাইনটি এখানে খুব মানায়: “Words offer the means to meaning, and for those who will listen, the enunciation of truth.” শব্দ অর্থের পথ খুলে দেয়। যারা শুনতে প্রস্তুত, তাদের কাছে শব্দ সত্য উচ্চারণের মাধ্যম হয়ে ওঠে। রবুবিয়ত সেই অর্থে শুধু একটি শব্দ নয়; এটি এক ধরনের enunciation। এটি বলছে, আমাদের সমাজকে কেবল governance, development, security, market, rights, reform, participation, resilience, sustainability—এই borrowed categories দিয়ে পুরোপুরি বোঝা যাবে না। এগুলো দরকারি হতে পারে। কিন্তু এগুলো যথেষ্ট নয়। কারণ এগুলো অনেক সময় আমাদের জীবনের গভীরতম নৈতিক বন্দোবস্তকে ধরতে পারে না। Governance বলে: কে পরিচালনা করবে? রবুবিয়ত জিজ্ঞেস করে: কে পালন করছে? Development বলে: কী বৃদ্ধি পেল? রবুবিয়ত জিজ্ঞেস করে: কী মেরামত হলো? Security বলে: কী নিয়ন্ত্রণে আছে? রবুবিয়ত জিজ্ঞেস করে: কে নিরাপদে মর্যাদা নিয়ে বাঁচছে? Policy বলে: কোন intervention কাজ করল? রবুবিয়ত জিজ্ঞেস করে: কোন সম্পর্ক টিকে গেল, কোন জীবন শ্বাস নিতে পারল? Market বলে: কী মূল্য পেল? রবুবিয়ত জিজ্ঞেস করে: কী অমূল্য থেকে গেল? State বলে: কার অধিকার স্বীকৃত? রবুবিয়ত জিজ্ঞেস করে: কার আমানত রক্ষা হলো? এই পার্থক্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ colonial governance machine এবং বর্তমান world order মূলত societies of control তৈরি করে। মানুষকে classify করো, monitor করো, discipline করো, manage করো, predict করো, optimise করো, make productive করো, make governable করো। স্কুল, হাসপাতাল, পুলিশ, আদালত, census, land record, planning, development project, NGO logframe, donor audit, biometric database, smart city dashboard—সব জায়গায় control-এর ভাষা ছড়িয়ে আছে। মানুষের জীবনকে legible করতে হবে, যাতে তাকে শাসন করা যায়। কিন্তু legibility আর flourishing এক জিনিস নয়। যে সমাজ রাষ্ট্রের কাছে legible, সে সমাজ necessarily ভালো থাকে না। যে মানুষ database-এ আছে, সে মর্যাদা পায় না। যে কমিউনিটি project beneficiary হিসেবে চিহ্নিত, সে কণ্ঠ পায় না। যে নদী map-এ আছে, সে জীবন্ত থাকে না। যে শহর planned, সে ন্যায়বান হয় না। যে উন্নয়ন measurable, সে পালনশীল হয় না। রবুবিয়ত এই control logic-এর বিরুদ্ধে flourishing-এর ভাষা খোঁজে। এটি বলে, সমাজকে শুধু governable করার জন্য নয়, livable করার জন্য ভাবতে হবে। মানুষকে শুধু compliant, productive, resilient, employable, taxable, documented, surveillable subject বানানো যাবে না। মানুষকে এমনভাবে দেখতে হবে, যাতে তার মর্যাদা, দুর্বলতা, সম্পর্ক, রিজিক, বিশ্বাস, কষ্ট, স্মৃতি, আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎ একসঙ্গে ধরা যায়।
এই জন্য রবুবিয়ত আমাদের চিরচরিত সামাজিক বন্দোবস্তেরই নতুন রাজনৈতিক পাঠ। নতুন শব্দ দিয়ে পুরনো জিনিস ঢেকে দেওয়া নয়; বরং পুরনো, গভীর, প্রতিদিনের, অদৃশ্য নৈতিক বাস্তবতাকে public language-এ আনা। আমরা যা বহুদিন ধরে practice করি, সেটাকে আমরা কী নামে চিনব? তাকে কি informal coping বলব? community resilience বলব? social capital বলব? mutual aid বলব? care economy বলব? এগুলো কিছু দিক ধরে। কিন্তু রবুবিয়ত আরও গভীর এক প্রশ্ন ধরে: এই পালন কোথা থেকে আসে? এর নৈতিক ভিত্তি কী? মানুষ কেন অন্যের দায় নেয়? জীবন কেন আমানত? রিজিকের সঙ্গে হক কেন জড়ানো? ক্ষমতা কেন হিসাবের বিষয়? ভবিষ্যৎ কেন ভোগের সম্পদ না, বরং পালনের ক্ষেত্র? এই ভাষা দরকার কারণ আমাদের inherited categories আমাদের arrangements দেখতে দেয় না। আমরা নিজেদের সমাজকে অন্যের চোখে দেখতে দেখতে নিজেদের চেনার ক্ষমতা হারিয়েছি। আমাদের কাছে আছে পরিবার, পাড়া, দরদ, দায়, লজ্জা, ইজ্জত, বরকত, রিজিক, হক, আমানত, মেহনত, মুরব্বিয়ানা, মেহমানদারি, মজলুমের পাশে দাঁড়ানো, মৃতের অধিকার, প্রতিবেশীর হক, নদীর সঙ্গে জীবন, জমির সঙ্গে শরীর, দোয়া, ক্ষমা, তওবা, মেরামত। কিন্তু policy language এগুলোর অনেককেই either romantic করে, অথবা backward করে, অথবা ignore করে। রবুবিয়ত এই জিনিসগুলোকে romantic করতে চায় না। কারণ আমাদের সামাজিক বন্দোবস্তের ভেতরেও জুলুম আছে। পরিবার পালন করে, আবার দমনও করে। পাড়া সাহায্য করে, আবার surveillance-ও করে। ধর্ম মমতা শেখায়, আবার ক্ষমতার হাতিয়ারও হয়। tradition আশ্রয় দেয়, আবার hierarchy-ও রক্ষা করে। তাই রবুবিয়ত মানে পুরনো সমাজকে পবিত্র ঘোষণা করা না। বরং রবুবিয়ত মানে সব social arrangement-কে আমানতের প্রশ্নে দাঁড় করানো: এটা কি পালন করছে, নাকি নিয়ন্ত্রণ করছে? এটা কি মর্যাদা দিচ্ছে, নাকি চুপ করাচ্ছে? এটা কি দুর্বলকে আশ্রয় দিচ্ছে, নাকি দুর্বলকে ব্যবহার করছে? এইখানেই শব্দটির রাজনৈতিক শক্তি। রবুবিয়ত আমাদের শুধু রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দাঁড় করায় না; সমাজের ভেতরের জুলুমের বিরুদ্ধেও দাঁড় করায়। শুধু colonial governance-এর সমালোচনা নয়; local domination-এরও সমালোচনা। শুধু পশ্চিমা control-এর বিরুদ্ধে নয়; নিজের ঘরের অন্যায়ের বিরুদ্ধেও। কারণ পালন যদি সত্যি হয়, তা selective হতে পারে না। যে পরিবার মেয়ের কণ্ঠ দমায়, সে রবুবিয়ত চর্চা করছে না। যে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আনুগত্য চায় কিন্তু মর্যাদা দেয় না, সে রবুবিয়ত চর্চা করছে না। যে রাষ্ট্র উন্নয়ন করে কিন্তু মানুষ উচ্ছেদ করে, সে রবুবিয়ত চর্চা করছে না। যে আন্দোলন মুক্তির নামে ভিন্নমত ধ্বংস করে, সেও রবুবিয়ত চর্চা করছে না। তাহলে এর নাম রবুবিয়ত কেন?
কারণ আমরা এমন একটি ভাষা চাই, যা একই সঙ্গে পরিচিত এবং বিঘ্নকারী। পরিচিত, কারণ এটি আমাদের সাংস্কৃতিক-আধ্যাত্মিক স্মৃতির ভেতর আছে। বিঘ্নকারী, কারণ এটি governance machine-এর vocabulary-তে সহজে ধরা পড়ে না। এই শব্দ শুনলে bureaucracy একটু অস্বস্তিতে পড়ে। donor framework সঙ্গে সঙ্গে box বানাতে পারে না। technocrat তৎক্ষণাৎ indicator বানাতে পারে না। ideology এটাকে সহজে left-right map-এ বসাতে পারে না। market এটাকে product বানাতে একটু সময় নেয়। এই অস্বস্তি দরকার। কারণ control-এর ভাষা সবকিছুকে capture করতে চায়। আমাদের এমন শব্দ দরকার, যা capture হতে দেরি করে; যা প্রশ্ন খুলে দেয়; যা অন্যরকম ভাবতে বাধ্য করে। কিন্তু এটা শুধু new word for new world না। বরং old wisdom for a wounded world. এমন এক পুরনো শব্দ, যা ভবিষ্যতের দরজা খুলতে পারে। এমন এক পরিচিত ধারণা, যা আধুনিক governance-এর অন্ধত্বকে প্রকাশ করে। এমন এক আধ্যাত্মিক-রাজনৈতিক ব্যাকরণ, যা বলতে পারে: মানুষকে শুধু manage করো না, পালন করো। সমাজকে শুধু reform করো না, heal করো। প্রকৃতিকে শুধু conserve করো না, সম্পর্ক পুনর্গঠন করো। জ্ঞানকে শুধু produce করো না, দায়িত্বের সঙ্গে ব্যবহার করো। ক্ষমতাকে শুধু distribute করো না, accountable করো। উন্নয়নকে শুধু deliver করো না, জীবনকে flourishing-এর সুযোগ দাও।
রবুবিয়ত বললে আমরা দাবি করছি—আমাদের নিজস্ব দিগন্ত আছে। আমাদের সমাজ শুধু failure না। শুধু corruption না। শুধু underdevelopment না। শুধু governance problem না। আমাদের মধ্যে এমন নৈতিক ভাণ্ডার আছে, যা চাপা পড়েছে, বিকৃত হয়েছে, অনেক সময় নিজেই জুলুমে জড়িয়ে গেছে, কিন্তু পুরোপুরি মরে যায়নি। তাকে উদ্ধার করতে হবে। তাকে নতুনভাবে পড়তে হবে। তাকে জনজীবনের ভাষায় ফিরিয়ে আনতে হবে। এবং এই ফিরিয়ে আনা nostalgia নয়। এটা future work. কারণ old world order ভেঙে যাচ্ছে। climate crisis, polycrisis, debt, war, displacement, loneliness, ecological collapse—সবকিছু দেখাচ্ছে যে control দিয়ে পৃথিবী টেকে না। শুধু efficiency দিয়ে সভ্যতা টেকে না। শুধু growth দিয়ে সমাজ টেকে না। শুধু rights দিয়ে সম্পর্ক টেকে না। শুধু state capacity দিয়ে বিশ্বাস জন্মায় না। শুধু technology দিয়ে wisdom আসে না। আমাদের এমন ভাষা দরকার যা life-making practices-কে কেন্দ্র করে, not just rule-making practices. রবুবিয়ত সেই ভাষার একটি সম্ভাবনা। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়: রাজনীতি শুধু শাসন নয়, পালন। অর্থনীতি শুধু উৎপাদন নয়, রিজিকের ন্যায়। উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নয়, মেরামত। শিক্ষা শুধু চাকরি নয়, মানুষ হওয়া। ধর্ম শুধু পরিচয় নয়, আমানত। রাষ্ট্র শুধু ক্ষমতা নয়, জবাবদিহি। সমাজ শুধু tradition নয়, পারস্পরিক দায়। আর মানুষ শুধু self-interest নয়—মানুষ হলো দায়বদ্ধ, সম্পর্কময়, ভঙ্গুর, সম্ভাবনাময় এক সত্তা।
তাই প্রশ্নটি “নাম রবুবিয়ত কেন?”—এর উত্তর শেষ পর্যন্ত এই: কারণ আমাদের এমন শব্দ দরকার, যা আমাদের নিজেদের গভীর সামাজিক বাস্তবতাকে দৃশ্যমান করে। কারণ আমাদের এমন ভাষা দরকার, যা colonial governance-এর control logic ভেঙে flourishing-এর কথা বলে। কারণ আমাদের এমন নৈতিক ব্যাকরণ দরকার, যা উন্নয়ন, রাষ্ট্র, ধর্ম, পরিবার, বাজার, আন্দোলন—সবকিছুকে এক প্রশ্নে দাঁড় করায়: তুমি কি পালন করছ, নাকি ব্যবহার করছ? কারণ আমরা শুধু নতুন পৃথিবীর জন্য নতুন শব্দ বানাচ্ছি না; আমরা হারিয়ে যাওয়া সত্যকে আবার উচ্চারণ করছি। “Words offer the means to meaning, and for those who will listen, the enunciation of truth.” রবুবিয়ত সেই উচ্চারণের চেষ্টা।