রুবুবিয়তকে বন্ধ ধারণা বানাবেন না: এক অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট মেটা-কনসেপ্টের দিকে - রুবুবিয়ত-06
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাষায় “রুবুবিয়ত” নিয়ে নতুন করে আলাপ শুরু হয়েছে। এই আলাপ জরুরি, কারণ আমাদের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা, দল, রাষ্ট্র, উন্নয়ন, নেতৃত্ব, মতবাদ, আ......
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভাষায় “রুবুবিয়ত” নিয়ে নতুন করে আলাপ শুরু হয়েছে। এই আলাপ জরুরি, কারণ আমাদের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতা, দল, রাষ্ট্র, উন্নয়ন, নেতৃত্ব, মতবাদ, আন্দোলন, বিপ্লব—এসব ভাষার মধ্যে বন্দি থেকেছে। কিন্তু মানুষ কেবল শাসিত হতে চায় না; মানুষ পালন চাই, প্রতিপালন চাই, নিরাপত্তা চাই, মর্যাদা চাই, সম্পর্ক চাই, দরদ চাই, ন্যায় চাই, এবং প্রকৃতির সঙ্গে বাসযোগ্য এক জগৎ চাই। এই জায়গা থেকেই রুবুবিয়ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
কিন্তু বিপদও এখানেই। কোনো ধারণা যত শক্তিশালী হয়, তাকে দখল করার প্রবণতাও তত বাড়ে। রুবুবিয়তকে যদি খুব দ্রুত একটি প্রস্তুত, বন্ধ, বিশুদ্ধ, একরৈখিক রাজনৈতিক আইডিওলজি বানিয়ে ফেলা হয়, তাহলে তার সম্ভাবনা নষ্ট হবে। তখন রুবুবিয়ত আর পালন, প্রতিপালন, দরদ, জবাবদিহি ও জীবনের ধারক নৈতিকতা থাকবে না; বরং হয়ে উঠবে আরেকটি ক্ষমতাকেন্দ্রিক স্লোগান। যার নামে ভিন্নমতকে দমন করা যাবে, জটিল বাস্তবতাকে সরলীকরণ করা যাবে, এবং ক্ষমতাকে পবিত্রতার ভাষায় ঢেকে দেওয়া যাবে। তাই প্রশ্নটি খুব জরুরি: আমরা কেন রুবুবিয়তকে এত দ্রুত essentialist ভাষায় ভাবছি? কেন ধরে নিচ্ছি যে এটি একটি আগেই সম্পূর্ণ হয়ে থাকা ধারণা, যার একটিমাত্র অর্থ আছে, একটিমাত্র কর্তৃত্ব আছে, একটিমাত্র রাজনৈতিক রূপ আছে? রুবুবিয়তকে কি আমরা এমনভাবে পড়তে পারি না যেখানে এটি কোনো বন্ধ মতবাদ নয়, বরং একটি চলমান হয়ে ওঠা—একটি becoming? এমন এক ধারণা, যা নিজেকে সমাজের ক্ষত, মানুষের প্রয়োজন, প্রকৃতির আর্তি, দরিদ্রের অভিজ্ঞতা, নারীর নিরাপত্তাহীনতা, শ্রমিকের অদৃশ্য পরিশ্রম, নদীর মৃত্যু, জলবায়ু সংকট, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারের সঙ্গে সম্পর্কিত করতে করতে নতুন রাজনৈতিক অর্থ তৈরি করে?
আমি মনে করি, রুবুবিয়তকে একটি মেটা-কনসেপ্ট হিসেবে পড়া দরকার। ছাতা-ধারণা হিসেবে নয়, কারণ ছাতা-ধারণা শুধু অনেক ধারণাকে এক জায়গায় রাখে। মেটা-কনসেপ্ট আরও গভীর কাজ করে। এটি অন্য ধারণাগুলোর অর্থ পাল্টায়, তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করে, তাদের নৈতিক ভিত্তি জিজ্ঞাসা করে, এবং তাদের রাজনৈতিক দিকনির্দেশ পুনর্গঠন করে। রুবুবিয়ত যদি মেটা-কনসেপ্ট হয়, তাহলে commons, solidarity, alternative economy, social democracy, more-than-human politics, ecological justice, mutual aid, care ethics, community stewardship—এসব ধারণা শুধু তার নিচে জায়গা পাবে না; বরং রুবুবিয়তের আলোকে নতুন অর্থ পাবে। Commons তখন কেবল সম্পদের যৌথ ব্যবস্থাপনা থাকবে না; commons হবে প্রতিপালনের নৈতিক ক্ষেত্র। জমি, জল, বন, রাস্তা, পুকুর, নদী, পাড়া, জ্ঞান, প্রযুক্তি—এসবকে বাজার বা রাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণের বাইরে এনে সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে ভাবার পথ খুলবে। রুবুবিয়ত commons-কে বলবে: যৌথতা শুধু মালিকানার প্রশ্ন নয়, পালন করার প্রশ্ন। একটি জলাশয় কার? এই প্রশ্নের চেয়েও জরুরি: কে তাকে বাঁচাবে? কে তার ক্ষতি ঠেকাবে? কে তার ওপর নির্ভরশীল প্রাণ, মানুষ, উদ্ভিদ, জীবিকা ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেবে? Alternative economy তখন শুধু পুঁজিবাদের বিকল্প কোনো অর্থনৈতিক মডেল নয়; এটি হবে রিজিক, ন্যায়, সীমা, সংযম, বণ্টন, মর্যাদা ও জীবনের পুনরুৎপাদনের প্রশ্ন। রুবুবিয়তের আলোকে অর্থনীতি মানে কেবল উৎপাদন ও প্রবৃদ্ধি নয়; অর্থনীতি মানে কে খাচ্ছে, কে অনাহারে আছে, কে ঋণে ডুবে আছে, কে জমি হারাচ্ছে, কার শ্রম অদৃশ্য, কার যত্নের কাজ অবৈতনিক, কার জীবন বাজারের দরে মাপা হচ্ছে। রুবুবিয়ত অর্থনীতিকে জিজ্ঞাসা করবে: এই অর্থনীতি কি পালন করে, নাকি নিঃশেষ করে? এটি কি জীবন বাড়ায়, নাকি জীবনকে পণ্য বানায়?
Solidarity তখন কেবল রাজনৈতিক মৈত্রী নয়; এটি হবে দায়ের বিস্তার। আমার ব্যথা শুধু আমার নয়, অন্যের ক্ষুধা শুধু তার নয়, নদীর মৃত্যু শুধু পরিবেশবাদীর সমস্যা নয়, শ্রমিকের মজুরি শুধু শ্রমিক রাজনীতির বিষয় নয়, নারীর নিরাপত্তা শুধু নারীর প্রশ্ন নয়। রুবুবিয়তের ভেতর solidarity মানে একে অন্যের প্রতি প্রতিপালনমূলক দায় স্বীকার করা। এমন এক সমাজকল্পনা যেখানে মানুষ শুধু অধিকার দাবি করে না, দায়িত্বও নেয়; শুধু নিজের গোষ্ঠীর জন্য নয়, অপরিচিতের জন্যও দাঁড়ায়। More-than-human politics তখন কোনো একাডেমিক ফ্যাশন নয়; এটি রুবুবিয়তের অন্তর্গত বিস্তার। কারণ প্রতিপালনের ধারণা মানুষে এসে শেষ হতে পারে না। মাটি, জল, বাতাস, প্রাণী, গাছ, নদী, জলাভূমি, খাদ্যব্যবস্থা, বীজ, আবহাওয়া—সবই জীবনের শর্ত। যে রাজনীতি নদী মারে, জলাশয় ভরাট করে, বন উজাড় করে, প্রাণের পরিসর ধ্বংস করে, তারপর মানুষের উন্নয়নের কথা বলে—সেটি রুবুবিয়তের রাজনীতি হতে পারে না। রুবুবিয়ত মানুষকে প্রকৃতির মালিক নয়, আমানতদার হিসেবে ভাবতে শেখায়। এই আমানতদারিত্বই more-than-human নৈতিকতার গভীর ভিত্তি হতে পারে। Care ethics বা যত্নের রাজনীতিও রুবুবিয়তের ভেতর নতুন অর্থ পায়। তবে এখানে সতর্কতা জরুরি। “যত্ন” শব্দটি অনেক সময় পিতৃতান্ত্রিক হয়ে যেতে পারে, যেন কেউ ওপর থেকে দয়া করছে। রুবুবিয়ত এই দয়ার রাজনীতি নয়। এটি করুণা প্রদর্শনের ভাষা নয়, বরং জবাবদিহিমূলক পালন। যে ক্ষমতায় আছে, তার দায় বেশি। যে সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে, তার হিসাব বেশি। যে নেতৃত্ব দেয়, তার শ্রবণ বেশি। যে রাষ্ট্র শাসন করে, তার প্রতিপালনের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। তাই রুবুবিয়ত কোনো paternalistic care নয়; এটি accountable care। এই কারণেই রুবুবিয়তের একটি রাইজোম্যাটিক পাঠ জরুরি। রাইজোম্যাটিক মানে একক মূল নয়, বহু সংযোগ; একক কেন্দ্র নয়, ছড়িয়ে থাকা সম্পর্ক; একক ব্যাখ্যা নয়, চলমান অনুবাদ। রুবুবিয়তকে যদি একক দল, একক নেতা, একক আলেম, একক মতবাদ, একক রাষ্ট্রীয় ভাষ্য, বা একক আন্দোলনের হাতে বন্দি করা হয়, তাহলে তা দ্রুতই সংকীর্ণ হয়ে যাবে। কিন্তু রুবুবিয়ত যদি রাইজোম্যাটিকভাবে ছড়িয়ে পড়ে—পাড়ায়, মসজিদে, কৃষিক্ষেতে, শ্রমিক ইউনিয়নে, নারীর নিরাপত্তা আন্দোলনে, নদী রক্ষার সংগ্রামে, সামাজিক সুরক্ষায়, নগর পরিকল্পনায়, অর্থনৈতিক ন্যায়ে, শিক্ষা ব্যবস্থায়, জলবায়ু অভিযোজনে—তাহলে এটি একটি জীবন্ত রাজনৈতিক নৈতিকতা হয়ে উঠতে পারে। এখানে রুবুবিয়ত post-ideological অর্থে গুরুত্বপূর্ণ। Post-ideological মানে আদর্শহীনতা নয়। বরং এর অর্থ হলো কোনো মতবাদ নিজেকে ইতিহাসের শেষ সত্য বলে দাবি করতে পারবে না। রুবুবিয়ত তখন বাম-ডান, ইসলামি-সেক্যুলার, উন্নয়নবাদী-বিরোধী, রাষ্ট্রবাদী-অরাষ্ট্রবাদী—এই পুরোনো বাক্সগুলোর মধ্যে আটকে থাকবে না। এটি বরং জিজ্ঞাসা করবে: কে পালন পাচ্ছে? কে বঞ্চিত হচ্ছে? কার কণ্ঠ চাপা পড়ছে? কার শ্রম অদৃশ্য? কার জমি দখল হচ্ছে? কোন নদী মরে যাচ্ছে? কোন পাড়ার মানুষ উচ্ছেদ হচ্ছে? কোন শিশু ভবিষ্যৎহীন হচ্ছে? কোন গোষ্ঠী নিরাপত্তাহীন? কোন প্রাণব্যবস্থা ধ্বংস হচ্ছে?
এই প্রশ্নগুলো রুবুবিয়তকে আইডিওলজি থেকে নৈতিক রাজনীতিতে নিয়ে আসে। কারণ আইডিওলজি প্রায়ই উত্তর দিয়ে শুরু করে। রুবুবিয়ত যদি মেটা-কনসেপ্ট হয়, তাহলে এটি প্রশ্ন দিয়ে শুরু করবে। এটি জিজ্ঞাসা করবে, কার জন্য রাজনীতি? কার ওপর উন্নয়ন? কার নামে ধর্ম? কার নামে জাতি? কার নামে জনগণ? কার নামে শৃঙ্খলা? কার নামে নিরাপত্তা? এই প্রশ্ন না থাকলে রুবুবিয়তও ক্ষমতার ভাষায় পরিণত হতে পারে। রুবুবিয়তের অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট সম্ভাবনা এখানেই। এটি যদি সত্যিই পালন ও প্রতিপালনের ধারণা হয়, তাহলে এটি কোনোভাবেই স্বৈরাচারী হতে পারে না। কারণ ফ্যাসিবাদ মানুষের বহুত্বকে ভয় পায়, ভিন্নমতকে শত্রু বানায়, সমাজকে এক দেহে পরিণত করতে চায়, নেতাকে জাতির অবতার বানায়, এবং জটিল বাস্তবতাকে একক স্লোগানে নামিয়ে আনে। রুবুবিয়ত তার বিপরীত দিকে যেতে পারে—যদি আমরা তাকে খোলা রাখি। এটি বহুত্বকে আল্লাহর সৃষ্টির বিস্তার হিসেবে দেখতে পারে। এটি ভিন্নমতকে শত্রু নয়, ন্যায়ের পরীক্ষা হিসেবে দেখতে পারে। এটি ক্ষমতাকে পবিত্র না করে ক্ষমতার ওপর নৈতিক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে।
তবে এই সম্ভাবনা স্বয়ংক্রিয় নয়। কোনো ধারণা পবিত্র উৎস থেকে এলেই রাজনৈতিকভাবে মুক্তিকামী হয়ে যায় না। ধারণাকে মুক্তিকামী করে তার ব্যবহার, প্রতিষ্ঠান, ব্যাখ্যার বহুত্ব, এবং জবাবদিহির কাঠামো। তাই রুবুবিয়তের ভেতরে স্বৈরতান্ত্রিক ও ফ্যাসিস্ট প্রবণতা ঠেকাতে অন্তত পাঁচটি নীতি জরুরি। প্রথমত, রুবুবিয়তকে একক ব্যাখ্যার হাতে বন্দি করা যাবে না। কোনো দল, রাষ্ট্র, নেতা, আলেম, বুদ্ধিজীবী বা সংগঠন যেন রুবুবিয়তের চূড়ান্ত মালিক হতে না পারে। রুবুবিয়তকে কুরআনিক, নৈতিক, সামাজিক, পরিবেশগত, অর্থনৈতিক, নারীবাদী, শ্রমিক, কৃষক, নগর, গ্রামীণ, আদিবাসী, নদীমাতৃক—বহু পাঠের মধ্য দিয়ে চলতে দিতে হবে। একক ব্যাখ্যা যত শক্তিশালী হয়, ফ্যাসিবাদের ঝুঁকি তত বাড়ে। দ্বিতীয়ত, পালনকে শাসনের ভাষা নয়, জবাবদিহির ভাষা করতে হবে। “আমরা জনগণকে পালন করব”—এই ভাষা খুব সহজেই পিতৃতান্ত্রিক ও কর্তৃত্ববাদী হয়ে যেতে পারে। রুবুবিয়ত মানে ওপর থেকে দয়া নয়; বরং ক্ষমতার ওপর দায় চাপানো। রাষ্ট্র যদি রুবুবিয়তের কথা বলে, তাহলে তাকে জিজ্ঞাসা করতে হবে: আপনার বাজেটে দরিদ্র কোথায়? আপনার নগর পরিকল্পনায় উচ্ছেদ হওয়া মানুষ কোথায়? আপনার কৃষিনীতিতে মাটি কোথায়? আপনার উন্নয়নে নদী কোথায়? আপনার নিরাপত্তায় সংখ্যালঘু কোথায়? আপনার অর্থনীতিতে শ্রমিক কোথায়? তৃতীয়ত, দরদকে প্রতিষ্ঠান ছাড়া রেখে দিলে চলবে না। দরদ যদি শুধু বক্তৃতায় থাকে, তা দ্রুত অলংকারে পরিণত হয়। রুবুবিয়তকে বাস্তব প্রতিষ্ঠানে অনুবাদ করতে হবে: অংশগ্রহণমূলক বাজেট, সামাজিক সুরক্ষা, স্থানীয় গণশুনানি, ভূমি ও আবাসন ন্যায়বিচার, জলাশয় রক্ষা, পরিবেশগত অধিকার, শ্রমিক অধিকার, নারী ও সংখ্যালঘুর নিরাপত্তা, কমিউনিটি মালিকানা, সমবায় অর্থনীতি, স্থানীয় খাদ্যব্যবস্থা। রুবুবিয়ত শুধু নৈতিক ভাষা নয়; এটি প্রাতিষ্ঠানিক কল্পনাও দাবি করে। চতুর্থত, ভিন্নমতকে রুবুবিয়তের শত্রু নয়, পরীক্ষা হিসেবে দেখতে হবে। যে ধারণা সমালোচনা সহ্য করতে পারে না, সেটি পালনমূলক নয়; সেটি ভীত। রুবুবিয়তের রাজনীতি হতে হবে এমন, যেখানে বিরোধী কণ্ঠ, নারীর প্রশ্ন, তরুণদের অস্বস্তি, সংখ্যালঘু অভিজ্ঞতা, দরিদ্রের ক্ষোভ, প্রান্তিক মানুষের অভিযোগ—এসবকে নষ্টামি বা ফিতনা বলে বাতিল করা হবে না। বরং এগুলোই দেখাবে রুবুবিয়ত কতটা বাস্তব, কতটা ন্যায়ভিত্তিক, কতটা দরদী। পঞ্চমত, মানুষ-কেন্দ্রিক রাজনীতিকে জীবমণ্ডলীয় দায়িত্বে বিস্তৃত করতে হবে। ফ্যাসিবাদ প্রায়ই প্রকৃতিকে সম্পদে নামিয়ে আনে এবং মানুষকেও স্তরভিত্তিক করে। রুবুবিয়ত যদি সত্যিই প্রতিপালনের ধারণা হয়, তাহলে তা নদী, বন, প্রাণী, মাটি, জল, বাতাস, জলাভূমি, খাদ্যব্যবস্থা, বীজ, জলবায়ু—সবকিছুর প্রতি দায় স্বীকার করবে। যে রাজনীতি প্রকৃতিকে হত্যা করে, দুর্বলকে উচ্ছেদ করে, শ্রমকে শোষণ করে, তারপর রুবুবিয়তের নাম নেয়—তার রুবুবিয়ত আসলে ক্ষমতার মুখোশ।
এইভাবে রুবুবিয়ত একটি মেটা-কনসেপ্ট হিসেবে আমাদের রাজনৈতিক ভাষাকে পুনর্গঠন করতে পারে। এটি commons-কে প্রতিপালনের ক্ষেত্র বানায়। Alternative economy-কে রিজিক, ন্যায় ও সংযমের প্রশ্নে ফেরত আনে। Solidarity-কে দায়ের বিস্তারে পরিণত করে। More-than-human politics-কে আমানতদারিত্বের নৈতিক ভিত্তি দেয়। Social democracy-কে শুধু কল্যাণরাষ্ট্র নয়, মর্যাদা ও বণ্টন-ন্যায়ের রাজনীতিতে গভীর করে। Community stewardship-কে শুধু স্থানীয় ব্যবস্থাপনা নয়, সামাজিক-পরিবেশগত ইবাদতের রূপ দিতে পারে। রুবুবিয়তের ভবিষ্যৎ তাই নির্ভর করছে আমরা এটিকে কীভাবে রাজনৈতিক কল্পনায় আনছি তার ওপর। এটি কি আরেকটি পরিচয়ভিত্তিক ক্ষমতা প্রকল্প হবে? নাকি এটি এমন এক মেটা-কনসেপ্ট হবে, যা ক্ষমতাকে নম্র করে, সমাজকে দায়ী করে, অর্থনীতিকে ন্যায়ভিত্তিক করে, রাষ্ট্রকে জবাবদিহিমূলক করে, প্রকৃতিকে রাজনৈতিক করে, এবং মানুষকে কেবল নাগরিক নয়—আমানতদার, প্রতিবেশী, সহচর, রক্ষক ও দায়িত্বশীল সত্তা হিসেবে ভাবতে শেখায়? রুবুবিয়তকে আইডিওলজি বানালে তা বন্ধ হয়ে যাবে। রুবুবিয়তকে মেটা-কনসেপ্ট হিসেবে ভাবলে তা চলমান থাকবে। আর রুবুবিয়তকে becoming হিসেবে রাখলে—তার ভেতরে commons, solidarity, alternative economy, ecological justice, more-than-human care, এবং সামাজিক ন্যায়—সবই নতুন অর্থে ফিরে আসতে পারে। আমাদের কাজ হয়তো রুবুবিয়তকে ব্যবহার করা নয়; রুবুবিয়তকে এমনভাবে চিন্তা করা, যাতে এটি ক্ষমতার হাতে বন্দি না হয়ে জীবনের পক্ষে দাঁড়াতে পারে।
মতামত জানান
এই প্রতিবেদন সম্পর্কে আপনার মতামত জানান। মতামত প্রকাশের আগে আমাদের নীতিমালা পড়ে নিন।